• ১ চৈত্র ১৪৩২, রবিবার ১৫ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

2nd Edition

নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

গল্পের মাঝে এসে হাজির চা আর পকোড়া। কারোর সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই,সবাই বিভোর হয়ে রয়েছে গল্পে।মামা থেমে বললেন নে সবাই চা টা খেয়ে নে তারপর আবার শুনবি।সবাই একসাথে বলে উঠলো চা খেতে খেতেই শুনি।তুমিও চা খেতে খেতে বলে যাও।বেশ বাবা বেশ তাই হবে, বলে মামা হাসলেন।আবার শুরু করলেন---এরপর কেটে গেছে অনেক গুলো বছর, হয়েছে অনেক পরিবর্তন।জমিদার বাবু নেই,বড়ো ছেলেও নেই সব কিছু তখন আমার দাদুর ঘাড়ে। আর শক্ত হাতে হাল ধরে রয়েছেন গিন্নি মা।একদিন হটাত ধূমকেতুর মতো একমুখ দাড়ি গোঁফ নিয়ে হাজির ছোট চন্দ্র আর ঘটনা চক্রে সেদিন গ্রামের প্রায় শেষ সীমানায় একটা মরা পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটা কঙ্কাল। পুকুরটা এখন মজে গেছে ঠিকই কিন্তু একসময় এর গভীরতা ছিলো অনেক। গ্রামের যারা এখন মধ্যবয়স্ক তারা চাপা গুঞ্জন তুলল যে ওটা সেই ভবানী ঠাকুরের মেয়ের, যে হটাত করেই হারিয়ে গেছিল।এ খবর জমিদার বাড়িতেও পৌঁছালো, কিন্তু সেখানে তখন ছোটোবাবুর আসার আনন্দ।তবু গিন্নিমা বলে উঠলেন মহাদেবের মনে কি আছে তিনিই জানেন আজই আমার চন্দ্রও ফিরে এলো।চন্দ্র এসে কিন্তু চুপচাপই রয়েছে।মায়ের সঙ্গে টুকটাক কথা বলছে। এর মাঝে যখন গ্রামের পুকুরের খবরটা এলো সে হটাত অস্থির হয়ে উঠলেন। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে সেই যে দরজা দিলেন আর খুললেন না।হরিয়া তো ছোটো বাবু কে দেখে খুব খুশী হয়ে তাকে বললো দেখো ছোটবাবু হামি সব ঠিক রেখেছি।তুমার উয়ো ছবি সব একদম ঠিক আছে।হরিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে ঘরে ঢুকে গেছিলেন তিনি।রাতে কিছু খায়নি সে।দরজাও খোলেনি।সকালবেলা অনেকবেলা পর্যন্ত দরজা না খোলায় আর ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখা গেলো শ্যামার ছবি বুকে নিয়ে চন্দ্রশেখরের নিথর দেহ শুয়ে আছে।গিন্নিমা শুধু বললেন ও শান্তি পেল, ভবানী ঠাকুরের অভিশাপ ফলতে লেগেছে।এরপর সত্যি কোনো ছেলে তিরিশ পেরোয়নি।শুধু আমি টিকে আছি। যখন আমার চাঁদ এলো তখন আমি বুঝলাম এবার হয়তো আমাদের অপেক্ষার অবসান হবে।কিন্তু সেটা যে উজানের বন্ধু হয়ে আমার বাড়িতে আসবে ভাবিনি।ভাবনা একটা হতো যে কিভাবে সে আসবে।চাঁদ ও ছোটো থেকে মানে তরুন বয়স থেকে স্বপ্নে ওর মুখ আবছা দেখতে থাকে।এবার মা রাশি আমাকে বলতো তোর এখানে এসে কি মনে হয়েছে?রায়া বলে ওঠে ও তো এসে থেকেই বলে যাচ্ছে আমি আগে এসেছি, এখানে এটা আছে, ওখানে ওটা ছিলো।মামা বললেন যেমনবাগানে ঘুরতে ঘুরতে পিছন দিকে এক জায়গায় বলল এখানে একটা আম গাছ ছিলো ।তারপর ছাদের ঘরে যাওয়া তো আমরা সবাই দেখলাম ।এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকার জায়গাই নেই যে ও শ্যামা।রাশি আর চাঁদ এবার দুজনেই একে একে বলল যে আমরা তো দুজনে দুজনকে দেখেই চিনেছি এ স্বপ্ন তে দেখা সেই মুখ যা আমাদের জীবনকে রহস্যে মুড়ে রেখেছিল।এবার মামা বললেন একবার রাশির মা বাবার সঙে কথা বলতে হবে, আমাকে ওনাদের ফোন নম্বর টা দে।আচ্ছা রাশি তোকে ছাদে কে নিয়ে গেছিল?একজন বয়স্ক লোক ।হ্যাঁ মনে পড়ছে না ঠিক----- হ্যাঁ হ্যাঁ হরিয়া।হ্যাঁ হরিয়া ছাড়া আর কে হবে? ওই নাকি দীর্ঘদিন ঐ ঘর দেখে শুনে রাখত আর ঐ ঘরের সামনেই নাকি মরে পড়েছিল ।যাক মহাদেবের অসীম কৃপায় আজ আবার যে দুজন কে পেয়েছি, এবার আর কোনো ভুল করতে চাই না। আমি আজই রাশির বাবা মা কে ফোন করবো। সেরকম হলে ওনাদের এখানে আসতে বলবো।সবাই কিন্তু চুপচাপ হয়ে গেছে সেই সময়ের এই বেদনা বিধুর প্রেমের কাহিনী শুনে।রাশির চোখে জল, চাঁদ কখন যেন রাশির পাশে এসে বসেছে।যেন দুজনে ফিরে যেতে চাইছে সেই সুদূরে যেখানে ওদের প্রেম প্রকাশ পাওয়ার আগেই মুছে গেছিল।সমাপ্তলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ১০, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্ব

মামা গল্প বলতে বলতে থেমে গিয়ে বললেন এই দাঁড়া দাঁড়া আমার তো ভুল হযে যাচ্ছে। ঘটনাটা আমরা দাদুর দাদুর আমলের।আমার দাদুর বাবারা ছিলেন তিন ভাই।বয়স হচ্ছে রে, তাই সব গুলিয়ে ফেলছি।সে যার আমলেই হোক তোমার দাদুর বাবার বা দাদুর দাদুর তুমি বলে যাও।মামা আবার শুরু করলেন....বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো । এর মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে; বড়ো ছেলের ছেলে মানে আমার দাদুর বাবার আগমন ঘটেছে, মেজো ছেলে বাঙলা দেশের তালুকের দায়িত্ব নিয়ে সেখানে বৌ নিয়ে আছে। আর ছোটো পড়াশুনার পাট চুকিয়ে গ্রামে ফিরে মন দিয়েছে আঁকায়। কলকাতায় সে আঁকার ট্রেনিং নিয়ে এসেছে যে ।আর এখানকার জমিদারির দায়িত্ব দেখাশোনা করতে লেগেছে বড় ছেলে।এমন সময় গিন্নিমার কানে গেলো একটা কথা। আসলে ঠিক কানে গেল বল চলে না। ওনাদের ভবানী ঠাকুর নিজে কদিন পুজো করতে না এসে অন্য একজনকে পাঠিয়ে ছিলেন।তাই তার খবর নিতে পাঠান গিন্নিমা । যদিও তার কানে একটা কথা এসেছে। তাই আরো উতলা হয়ে তিনি তার বিশেষ কাজের লোক শঙ্করী কে পাঠান খবর নিতে।সে এসে বলে যা শুনেছেন সব সত্যি। শ্যামা ফিরে এসেছে বাপের বাড়ি। তার ঠাঁই হয়নি সেখানে, তার স্বামী মারা গেছে আর সন্তান ও নেই।তাই তাকে আর কেউ রাখতে চায়নি শ্বশুর বাড়িতে।একথা শুনে গিন্নিমার মনটা খুব খারাপ হলো। তিনি বললেন ভবানী ঠাকুরকে খবর দাও।ভবানী ঠাকুর গিন্নিমার ডাকে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। খুব কান্নাকাটি করতে লাগলেন।একে তো মা-মরা মেয়ে তায় আবার এই অবস্থা,কি যে করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।গিন্নিমা বললেন -- কোনো চিন্তা করবেন না আমি তো আছি। আপনি শ্যামা মা কে আমার কাছে নিয়ে আসুন।গিন্নিমার এইকথা শুনে ভবানী ঠাকুর অনেকটা যেন হাল্কা হলেন।তিনি বললেন তাই হবে গিন্নিমা । আমি কালই ওকে আপনার কাছে নিয়ে আসবো। আপনি ওকে একটু আপনার পায়ে ঠাঁই দিলে আমি বেঁচে যাই গিন্নিমা।এই বলে ভবানী ঠাকুর চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলেন।পরদিন মেয়েকে সঙ্গে করে এলেন জমিদার বাড়ি। গিন্নিমা শ্যামাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বড়মার কথা তোর মনে পড়েনি? আমি কি তোর মা নই? এরকম অনেক মান অভিমানের কথা চলল।এর মধ্যে বড়ো বৌ ও এসে দাঁড়িয়েছে ঘরে, সেও শ্যামাকে খুব ভালোবাসত।তার ছেলেকে কোলে তুলে নিল শ্যামা । গিন্নিমা বললেন আজ থেকে ওর সব দেখাশোনার দায়িত্ব তোর । তুই তো ওর পিসিমা। এই বলে শ্যামার হাতে নিজের নাতি মানে আমার দাদুর দায়িত্ব তুলে দিলেন।আর অন্যদিকে ছোটো চন্দ্র বিয়ে থা না করে সারাদিন কলকাতা থেকে নিয়ে আসা এক বিহারি চাকর কে সঙ্গে নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আঁকার সরঞ্জাম নিয়ে।তার কানেও শ্যামার কথাটা গেছে, কিন্তু সে কিছু বলেনি।এইভাবেই দিন যেতে থাকে.....বড়ো বৌদির ছেলেকে নিয়ে বেশ কাটে শ্যামার সারাদিন ।তর মাঝে বড়মাকেও সাহায্য করে।বড়ো বৌদির সঙ্গে টুকটাক গল্প করে দিন কেটে যায় । শ্যমাকে বাড়ির কাজের লোকেরাও ওর মিষ্টি স্বভাবের জন্য খুব ভালোবাসে।এর মধ্যে চন্দ্র এর সঙ্গে দেখা হয়েছে। কেমন আছো ছোটদা? জিজ্ঞাসা করে শ্যামা ।ভালই আছি রে। তোর কি চেহারা হয়েছে রে শ্যামা?আমার আবার চেহারা; তুমি এবার একটা বিয়ে থা করো ।তুইও এসেই শুরু করে দিলি? মা বলেছে নিশ্চয়?শ্যামা চুপ করে রইল।এভাবে টুকটাক কথা হয় শ্যামা আর চন্দ্রের মধ্যে। আগের থেকে শ্যামা অনেক চুপচাপ হয়ে গেছে।একদিন চন্দ্রের বিহারী কাজের লোক হরিয়ার খুব জ্বর হয় সেদিন বড়মা শ্যামার উপর দায়িত্ব দেন ছোটদার ঘর পরিষ্কার করে দেওয়ার এবং খাওয়ার নিয়ে দিয়ে আসার। সেদিন শ্যামাকে একটা ছবি দেখায় চন্দ্র, সেটা শ্যামার বিয়ের পর এঁকেছিল সে।তোর বিয়ের পর তো আমার সঙ্গে আর তোর দেখা হয়নি তাই তোকে দেখাতেও পারিনি।খুব সুন্দর হয়েছে গো ছোটদা । তবে এখন তুমি আরো অনেক ভালো আঁকো ।চন্দ্রের ঘরে কেউ ঢোকে ও পছন্দ করতো না। কিন্তু শ্যামাকে কিছু বলেনি।শ্যামা দেখে শোওয়ার ঘরের পাশে একটা বড়ো ঘরে ছবি আঁকত চন্দ্র।শ্যামা দেখেছে যে সেখানে কিছু ছবি ঢাকা দেওয়া আছে।কৌতূহলী হয়েছে ঠিক কিন্তু কোনোদিন হাত দেয়নি। আর চন্দ্র এখন খুব চুপচাপ নিজের মনে থাকে ওকেও জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি।যে ছবি গুলো দেওয়ালে টাঙানো আছে সেগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখে যখন ঐ ঘরে যায়। যদিও খুব একটা যায়না বড়মা না পাঠালে।এদিকে হরিয়ার মাঝে মাঝেই শরীর ভালো যাচ্ছে না তাই শ্যামার উপর সেইদিন গুলোতে দায়িত্ব পরে শ্যামার উপর।এরকমই একদিন সন্ধ্যাবেলায় ছোটদার ঘরে আলো দিয়ে আসার সময় চন্দ্র বলে একটু কিছু খাবার নিয়ে আয় তো রে ক্ষিদে পেয়েছে।এটা আবার ওর স্বভাব মাঝেমাঝেই ক্ষিদে পায়।বেশ এনে দিচ্ছি বলে চলে যায় শ্যামা।একটু পরে বাটি করে নারকেল আর মুড়ি নিয়ে এসে দেখে ঘরে কেউ নেই।ছোটদা বলে ডাকতেই আঁকার ঘর থেকে আওয়াজ আসে এঘরে দিয়ে যা ।ওঘরে যেতেই দমকা হাওয়ার জোরে ঢাকা দেওয়া ছবি গুলো থেকে ঢাকা সরে যায় আর শ্যামা চমকে যায় এ যে তার ছবি।চন্দ্রও অপ্রস্তুত হয়ে যায়, আবার নিজেকে সামলে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঢাকা দিতে যায় ।কি করেছো এগুলো? কেনো করেছো? কেউ এগুলো দেখলে কি ভাববে জানো?চন্দ্র চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর বলে কেনো তুই কি কিছুই বুঝিসনা?আমার বোঝার দরকার নেই। লোকে তোমাকে কিছুই বলবে না, যতো দোষ হবে আমার।তোকে এভাবে দেখ্তে আমার একদম ভালো লাগেনা যে, তাই তো আমার স্বপ্ন দিয়ে তোকে এঁকেছি।শ্যামা কাঁদতে থাকে, কেনো কেনো করলে এমন?শ্যামাকে কাঁদতে দেখে চন্দ্র আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না শ্যামাকে জড়িয়ে ধরে, আর ঠিক সেইসময় একজন কাজের মেয়ে শ্যামা কে ডাকতে আসে আর ওদের দেখে ছুটে নেমে যায় ।এইপর্যন্ত বলে মামা একটু থামলেন।বলো বলো তাড়াতাড়ি বলো, চাঁদ বলেতারপরের ঘটনা খুব ছোটো করে বলি, একথা শেষে ওঠে গিন্নিমার কানে,গিন্নিমা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু জমিদার মশায়ের কানেও উঠে যায় ।ব্যাস আর যায় কোথায় ।শুরু হয়ে যায় জমিদারি খেলা। ভবানী ঠাকুরকে পাঠানো হলো শহরে কিছু একটা কাজে। তারপর দিন ভবানী ঠাকুর এসে শ্যামার খোঁজ করাতে অবাক হয়ে যান গিন্নিমা ।কি শ্যামা বাড়ি ফেরেনি কাল?না, আমি ভাবলাম আমার আসতে দেরি হবে ভেবে আপনি তাকে রেখে দিয়েছেন আপনার কাছে।গিন্নিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। চারদিকে খুঁজতে বলেন, কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না।তখন কিছু লোক হাহুতাশ করে আর কিছু লোক বাজে কথা বলে, যেমন সবসময় হয়।কাঁদতে কাঁদতে চলে যান ভবানী ঠাকুর। আর পুজো করতে আসেন না।সেদিন রাতে জমিদার গিন্নি ধরেন শশীশেখর বাবুকে কি করলে মেয়েটাকে? জমিদার বাবু মেজাজে বলেন আমি কি করে জানব?তুমি কিছু না জেনে কেনো এমন করলে? একথা চন্দ্র জানলে তাকে তুমি বেঁধে রাখতে পারবে তো?এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় টোকা পরে। দরজা খুলে তো চমকে যান গিন্নিমা।চন্দ্র তুই! কিছু বলবি বাবা?মায়ের কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল কিছু না বুঝেই এতোবড়ো একটা কাজ করে ফেললেন? আমাকে একবার জিজ্ঞাস করলেন না?চুপ করে রইলেন শশীশেখর বাবু।চলে গেলো চন্দ্র ঘর থেকে।একদিন চন্দ্র আবার কোথাও উধাও হয়ে গেলো,কাউকে কিছু না বলে।হরিয়া কিন্তু রয়ে গেলো ছোটো বাবুর ঘরটা আগলে।গ্রামেও এর মধ্যে প্রচার হয়ে গেলো যে জমিদারবাবুই শ্যামাকে গুম করে দিয়েছেন।একদিন ভবানী ঠাকুর পাগলের মতো এসে কাছরিতে ঢুকে পড়লেন,সেখানে তখন জমিদারবাবু নিজে উপস্থিত।ভবানী ঠাকুর বললেন আমার মেয়েটা কি ক্ষতি করেছিল যে তাকে মেরে দিলেন? আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমাদের বংশে ছেলেরা বেশিদিন বাঁচবে না,যতদিন না আমার মেয়ে ফিরে আসছে। আর এও বলে রাখলাম যদি সত্যি চন্দ্র তাকে ভালোবেসে থাকে সেও ফিরবে।এরপর কেউ আর ঐ গ্রামে ভবানী ঠাকুরকে দেখেনি।তারপর সত্যি এই বংশের ছেলেরা বেশিদিন বাঁচে না। আমিই রয়েছি শুধু ওদের মিলিয়ে দেবার জন্য বোধহয়। কারণ আমার দাদুর মাও যে শ্যামা কে বড্ড ভালবাসতেন। উনি বলেছিলেন যেন আমার বংশেই আবার চন্দ্র ফিরে আসে।তিনি যতদিন জীবিত থেকেছেন ছোটো দেওরের খোঁজ করে গেছেন। কিন্তু যে নিজে হারিয়ে যায় তাকে কি আর খূঁজে পাওয়া যায়?ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ০৩, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্ব

অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদ অর্থাত চন্দ্রশেখর রায়চৌধুরী উজানের মামাতো দাদা বাড়ি এলো দুপুর তখন প্রায় একটা। কিন্তু তখন আর কে গল্প শুনবে আর কেই বা শোনাবে?সুতরাং দুপুরের খাবার পর সবাই কে বিশ্রাম করে বিকেলে ঠিক পাঁচটার সময় চায়ের টেবিলে হাজির হতে বললেন মামা।সবাই ঘরে গেল ঠিকই কিন্তু কেউ ঘুমোতে পারলো না। রাশি কে দেখে তো মনে হচ্ছে কি যেন খূঁজে বেড়াচ্ছে মনে মনে।পাঁচটা বাজতেই সবাই হাজির চায়ের টেবিলে। চাঁদ বলল কি ব্যাপার বলতো হটাত ডেকে পাঠালে , আবার এইভাবে বিকেলে হাজির হতে বললে? কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। মামা বললেন চা খেয়ে নাও তারপর একটা জিনিস দেখাব। যদিও চাঁদ চট বেলায় একবার দেখেছিল।চা খাওয়া হয়ে গেলে মামা ওদের একটা ঘরের সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। চাঁদ বলল এই ঘরে আবার কি দেখাবে? কোনো দিন তো খোলাই হয়না। দরজা খুলে চাঁদের বাবা মানে মামা বাবু ঘরে ঢুকে আলো জ্বেলে সবাই কে ভিতরে ডাকলেন। ঘরটায় পরপর সব পুরুষের এবং মহিলাদের ছবি আছে এই বংশের । সব একে একে মামা দেখাচ্ছেন এবং পরিচয় দিচ্ছেন; আর রাশি পায়ে পায়ে একটা ছবির সামনে এসে দাঁড়িয়ে কি যেন বিড় বিড় করছে সেটা খেয়াল করে চাঁদ । ও অবাক হয়ে সেদিকে যায়, গিয়ে তো আরো অবাক । জোরে বলে ওঠে-- বাবা আমার এই বেশে ছবি এখানে কিভাবে এলো? আমি তো কখন তুলিনি।সবাই সেই দিকে ছুটে গেলো । দেখে তো সবাই অবাক। উপরের ঘরে রাশির মতো দেখতে একটি মেয়ের ছবি, আবার নিচে চাঁদের মতো এ কার ছবি? উজান বলল মামা কি ব্যাপার গো কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না। কোনোদিন কোনো গল্পও শুনিনি মায়ের কাছে। কি গল্প আছে আমাদের বলো ।মামা বললেন বেশ বেশ চল এঘর থেকে , বাইরে গিয়ে বসি তারপর সব বলছি। বলতে তো আমাকে হবেই।এই বলে সবাই কে বের করে নিয়ে ঘরে চাবি লাগিয়ে সবাই গিয়ে বৈঠকখানা ঘরে গিয়ে বসল।মামীমাও এসে বসলেন।এরপর মামা শুরু করলেন গল্প......মামা গল্প শুরু করলেন-- কাহিনী তখনকার যখন জমিদার ছিলেন আমার দাদুর বাবা শশীশেখর রায়চৌধুরী ।তার তিন ছেলে বড় ইন্দুশেখর, মেজো বিধুশেখর, আর ছোট চন্দ্রশেখর।এদের মধ্যে বড় আমার দাদু আর মেজো দাদু তখন কলকাতায় পড়াশুনা করছেন । আর বাড়িতে আমার ঠাকুমা আছেনআর ছোটো দাদু। সে দাদাদের থেকে বেশ ছোট ; তখন সে গ্রামের স্কুলেই পড়ছে। এমন সময় আমাদের কুলদেবতা মহাদেবের পুজোয় নিযুক্ত হন আমাদের কুল পুরোহিত বামাচরণ ভট্টাচার্য মশায়ের ছেলে ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচর্য মানে আমাদের ভবানী দাদু।ওনার মেয়ে শ্যামা সুন্দরী ছিলেন প্রায় আমাদের ছোট দাদুর বয়সী,বছর পাঁচের ছোট ।বাবার সঙ্গে মাঝে মাঝে ফুল নিয়ে আসত আমাদের বাড়িতে। মা মরা মেয়ে,আমাদের বড়মা খুব স্নেহ করতেন শ্যমাকে । একে নিজের কোনো মেয়ে নেই তায় আবার শ্যামার মা ছিলো না।সবাই বড়মা কে গিন্নীমা ডাকত। শ্যামাও তাই ডাকত।কিন্তু বড়মা তাকে বলে তুই আমাকে গিন্নিমা বলবি না,বড়মা বলবি,তারপর থেকে শ্যামা বড়মা ডাকতে থাকে। তখনো গ্রামের দিকে মেয়েদের পড়ার সেরকম চল ছিল না। কিন্তু শ্যামা পাঠশালায় যেত।মাঝে মধ্যে আসত জমিদার বাড়িতে।ছোট চাঁদের সঙ্গে তার বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে,প্রায় সমবয়সী দুজন।ওদের খেলতে দেখে বড়মা খুব আনন্দ পেতেন।ছোট দাদু খুব আঁকতে ভালোবাসতেন, তাই দাদারাও শহর থেকে আদরের ভাইকে নানান সরঞ্জাম এনে দিত। ছোটদাদার অত জিনিস শ্যামা অবাক চোখে দেখত। এইভাবে দুজনে বেশ থাকতো,কখন ঝগড়া করে বড়মাকে নালিশ জানাতো আবার কখন কচড়ে কাঁচা আম, তেঁতুল,বা বাড়ির তৈরী আচার এনে ছোট দাদাকে খাওয়াতো।দেখ্তে দেখ্তে শ্যামা বারো বছরের হলো যখন আর ঘরে রাখা যাবে না। এবার ওর বিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে আমার বাবার আগমন হয়ে গেছে। বড়ো বৌদিও শ্যামাকে বেশ ভালবাসে কারণ শ্যামা ছাড়া কথা বলার মতো কেই বা আছে ছোট দেওরটি ছাড়া।শ্যামার বিয়ে হয়ে গেলো ।শ্যামার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে সব চেয়ে বেশি একা হয়ে গেল চন্দ্র; কারণ সবসময় হুকুম তো শ্যামাই শুনত।অবশ্য বেশিদিন তাকেও একা থাকতে হয়নি,কলকাতায় পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ওখানে সে পড়ার সঙ্গে আঁকার চর্চায় মনোনিবেশ করলো। এদিকে কিছুদিনের মধ্যে মেজদাদুরও বিয়ে হয়ে গেলো ।আমার দাদুএখানকার জমিদারি দেখাশোনায় দাদুর সঙে লেগে পড়ল ।আর মেজদাদু তখনো পড়া শেষ হয়নি বলে কলকাতায় থাকতে লাগল ছোট ভাই কে নিয়ে।এইভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো ।শ্যামার কথা প্রায় সবাই ভুলতে বসেছে এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা...ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্ব

রায়া আর তিয়া দুজনেই রাশি কে দেখে একটু যেন অবাক হলো; ওদের মনে হলো ও যেন এ জগতে নেই।ওকে যেন একটু অন্যরকম লাগল।ওরা ডাকল রাশি এই রাশি কি বলছিস?না ও যেন ওদের ডাক শুনতেই পেল না । তখন রায়া ওকে ধাক্কা দিয়ে ডাকল এই রাশি কি বিড়বিড় করছিস?রায়ার ধাক্কাতে যেন রাশির সম্বিত ফিরল। ও বলল কি হয়েছে? এতক্ষণ যেন কিছুই হয়নি এমন করে কথা বলল রাশি।রায়া,তিয়া অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আর বলল কি হয়েছে মানে! তুই তো বলবি কি হয়েছে? কি বলছিলি তুই এতোক্ষণ?রাশি যেন কিছুই জানে না সেরকম করেই বলল আমি কি বলছিলাম? কই কিছু বলিনি তো।ওর এই ব্যবহারে তো ওরা রীতিমত বিস্মিত।কিন্তু ওরা আর কথা না বাড়িয়ে বলল -- যা তুই এবার চেঞ্জ করে খেতে চল।ওরা তিন জন আর পাশের ঘর থেকে উজান আর অত্রি কে দিশা এসে ডেকে নিয়ে গেলো ।ওরা সবাই মিলে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলো। মামা মামী ও বললেন ওদের শুয়ে পড়তে।ওরা যে যার মতো করে নিজেদের ঘরে চলে গেল।উজান বোন দিশার সঙ্গে একটু কথা বলবে বলে বসে রইল নিচে।বিশাল বাড়ি মামাদের। উজান অনেকদিন পর এলো তাই একটু বোনের কাছে জেনে নিচ্ছে কঁ দিকে কি আছে।ঘন্টা খানেক পর উজানও শুতে চলে গেলো। ঘরে গিয়ে ওরা একটু পরের দিন কি করবে সেটা আলোচনা করে যে জার মতো শুয়ে পড়ল।বেশ অনেকটা রাতে তিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো বাইরে যাবে বলে। ও ওয়াশ রুম থেকে ফিরে এসে দেখে রাশি বিছানায় নেই, ঘরেই নেই। ও তখন রায়াকে ডাকল। রায়া একটু বিরক্ত হয়ে উঠলো। রাশি ঘরে নেই শুনে তো ঘুম উড়ে গেলো ওরও।ওরা বেরিয়ে উজানদের ডাকল। উজান, অত্রিও ভয় পেয়ে গেলো এতো রাতে ওদের ডাক শুনে।ওরা বেরিয়ে এসে যখন শুনল রাশি ঘরে নেই তখন তো রীতিমত ভয় পেল ওরাও।কি করবে ঠিক করতে পারলো না। এতো বড়ো বাড়ির কোথায় গেলো ওরা তো কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। রায়া তখন উজান কে বলল রাশি কি বিড়বিড় করে বলছিল সেই কথা গুলো।উজান কিছু ভেবে না পেয়ে মামা কে ডাকল।মামা মামী বেরিয়ে এলো কৌতূহলী হয়ে। যখন শুনল রাশি কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তখন মামী বলে উঠলো-- আমি বললাম না এ সেই, দেখো ঠিক তার জায়গায় তাকে পাওয়া যাবেমামা একটু বিচলিত হয়ে বলল তুমি চুপ করো তো।মামা মামীর কথা ওদের কেউ বুঝতে পারলো না। রায়া তখন বলল রাশির বলা কথাগুলো।রাযার কথা শুনে মামা মামী বললো চলো তো দেখি গিয়ে।মামা আর মামী ছাদের দিকে চললো ওনাদের পিছনে ওরা চার জনও চলল ।মনে ওদের অনেক প্রশ্ন জাগছে। মামা মামীর কথায় কি যেন একটা আছে সেটা বুঝতে পারছে না ওরা।ওরা ছাদে গেলো, এদিক ওদিক খুঁজল বিশাল ছাদের কিন্তু কোথাও রাশি নেই।ওদের খুব ভয় করতে লাগল। তখন মামা বলল ঐ দেখো ঐ ঘরে আলো জ্বলছে, কে জ্বালালো আলো? অবাক এবার মামা মামী। ঘরটাই বা খুলল কে? এই সব প্রশ্ন করতে করতে ঘরে গিয়ে দেখল রাশি ওখানে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। আরো যা দেখল তা হলো কিছু ছবি।রাশিকে ঐভাবে উপরের ঘরে অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকতে দেখে ওরা সবাই যেমন অবাক হলো, আরো অবাক হলো ঐ ঘরে থাকা কিছু ছবি দেখে। যেগুলো দেখে তো খুবই পুরনো মনে হচ্ছে কিন্তু ছবির মেয়েটির সঙ্গে রাশির হুবহু মিল আছে।সবাই কৌতূহলী হয়ে মামা মামীমার দিকে তাকাল, কিন্তু তখন আগে রাশিকে ঠিক করা দরকার ছিলো তাই আর কথা না বাড়িয়ে অত্রি আর উজান দুজনে ধরে নামিয়ে নিয়ে এলো রাশিকে; তারপর ওদের ঘরে শুইয়ে দিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে ওর জ্ঞান ফেরাবার চেষ্টা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে ও সবাই কে একসাথে দেখে প্রথমে একটু অবাক হলো। তারপর আবার চোখ বুজে ফেলল। মামা বললেন --আজ রাতটা ও বিশ্রাম নিক, ওকে তোরা এখন কোনো প্রশ্ন করিসনা। সকালে জা শোনার শুনিস।আর তোদের বলতে ভুলে গেছি কাল সকলে চাঁদ আসছে।এই বলে ওনারা বেরিয়ে গেলেন। ওর কিছুক্ষণ বসে থেকে তারপর যে যার মতো শুয়ে পড়ল ।পরদিন সবার ঘুম ভাঙতে একটু দেরি হলো। রাশি কিন্তু শুয়ে রইল। রায়া তিয়া ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গেলো ।ও চুপ করে আছে দেখে মামী জিজ্ঞাসা করলেন --রাশি কাল রাতে তুই ছাদে কি করতে গিয়েছিলি? তুই চিনে গেলি কি করে ছাদে? ঐ ঘরের চাবি কোথায় পেলি?এই প্রশ্ন গুলো শুনে রাশি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর বললো কাল শোওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হটাত বেশ খানিকটা রাতে দরজায় আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেলো । আমি ভাবলাম অত্রি বা উজান হবে তাই উঠে দরজা খুলতে গেলাম।খুলে দেখি একজন মহিলা ঘোমটা দেওয়া।আমাকে বলল আমার সঙ্গে এসো।আমি সম্মহিতের মতো ওঁর পিছনে চললাম।ঐ আমাকে ঐ ঘরে নিয়ে গেলো। তারপর আমার কিছু মনে নেই।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো আমি তোমাদের বাড়িটা যেন চিনি, এখানে যেন কতো এসেছি।আর একটা জিনিস আমি সেই ছোটো থেকে কিছু স্বপ্ন দেখি আবছা আবছা এখানে এসে তোমাদের বাড়ি দেখে এটা বুঝতে পারি আমার সেই স্বপ্ন এখানকার সঙ্গে যুক্ত।পুরোটা ঠিক বুঝতে পারছিনা।তোমরা নিশ্চয় জানো,আমাকে বলবে ।ওর কথা শুনে এবার মামা বললেন তোকে দেখেই আমরা বুঝেছি সব। বলবো আর একটু অপেক্ষা কর , চাঁদ আসুক।ওরও যে জানা দরকার। শুধু তুই নয় রাশি ও যে এর সঙ্গে যুক্ত।এরপর ওরা চা জলখাবার খেয়ে রাজবাড়ির চারদিকটা দেখ্তে বেরোল সবাই মিলে।রাশি যেতে চাইছিল না, কিন্তু ওরা ওকে আর একা রেখে যেতে রাজী হলো না।তাই ও সঙ্গেই গেলো ।রাজবাড়ির বাগানে ঘুরতে ঘুরতে ও হটাত একজায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল, সবাই ডাকলো কিন্তু মনে হলো ও যেন ওর মধ্যে নেই।ও তখন বলল এখানে তো একটা বড়ো আমগাছ ছিলো ।গাছটা কি হলো? বলেই ও ওখানেই বসে পড়তে যাচ্ছিল রায়া ওর পাশে থাকায় ধরে ফেলল।রাশি যেন আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো । ওরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না কি ঘটছে রাশির সঙ্গে। কেনই বা রাশি এরকম ব্যবহার করছে!?মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরছে সবার, কিন্তু মামা বলেছেন সব বলবেন চাঁদ মানে ওনাদের ছেলে আসলে।উজানের দাদাভাই দিল্লিতে ডাক্তারি পড়ছে।ওর এখানে পৌঁছাতে দুপুর হবে।সুতরাং এখন অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই---ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল আরজি করের ঘটনা! বিস্ফোরক বার্তা দিলেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিগেডে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলারা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। তিনি জানান, তৃণমূলের গুন্ডারাজ আর থাকবে না, কেউ দমন করতে পারবে না। মোদির দাবি, বর্তমানে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মায়েরা কাঁদছে, বাঙালিরা নিজেদের জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। মোদী বলেন, বাংলার রুটি, মাটি, বেটি বিপন্ন, জনবিন্যাস পরিবর্তিত হয়েছে এবং হিন্দু বাঙালিদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা হচ্ছে।মোদী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের প্রকল্প রাজ্যে পৌঁছতে দিচ্ছে না তৃণমূল সরকার। বিশ্বকর্মা প্রকল্প থেকে টাকা দেওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রকল্পও আটকানো হয়েছে। চা শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পিএম আবাস যোজনার নাম বদলানো হয়েছে, তালিকা বদল করা হয়েছে, গরিবদের বাড়ি দেওয়া হয়নি। জলজীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পও চালু হতে দিচ্ছে না। মোদীর দাবি, বাংলার গরিবরা এ সব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পরিস্থিতিও শোচনীয়। একজন আলু চাষি আত্মহত্যা করেছেন। তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি মা-বোনেদের সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মোদী স্মরণ করান, বাংলার মানুষ আগে একসময় বাম গুন্ডাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই বাম দলের কিছু নেতাকে তৃণমূল আশ্রয় দিচ্ছে। রাজ্যে অপরাধীরা নিরাপদ, কলেজে ও আদিবাসী মহিলাদের উপর হামলা হচ্ছে, এবং মানুষ এখনো সন্দেশখালি, আরজিকরের মতো ঘটনা মনে রাখে।মোদী স্পষ্ট জানান, বিজেপি সরকার এলে এসব অন্যায়ের অবসান হবে। আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে, অপরাধীদের জেল ভাড়া হবে, এবং গরিব ও সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

পাঁচ বছর পর ব্রিগেডে মোদি! বাংলার জন্য আঠারো হাজার আটশো ষাট কোটির প্রকল্প ঘোষণা

ভোটের আবহে কলকাতায় এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় পাঁচ বছর পর আবার ব্রিগেড ময়দানে তাঁর জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সভার মঞ্চে রাখা হয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছে পুরো মঞ্চ।সভা শুরু হওয়ার আগে ব্রিগেডের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে বাংলার জন্য প্রায় আঠারো হাজার আটশো ষাট কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন দিশা খুলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। তাঁর কথায়, সড়ক, রেল এবং বন্দর পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত আঠারো হাজার কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্পের সূচনা হয়েছে।তিনি জানান, এই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলার উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন আরও সহজ ও উন্নত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, খড়গপুর থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগতির সড়ক প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের বহু এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। এছাড়াও দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর নতুন সেতু তৈরি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।এই অনুষ্ঠানে ছয়টি রেলস্টেশনকে আধুনিকীকরণের প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম এবং সিউড়ি এই ছয়টি স্টেশনকে নতুনভাবে উন্নত করা হচ্ছে।এছাড়াও তিনি জানান, হলদিয়া বন্দর এবং কলকাতা বন্দরের সংস্কার কাজও শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো পূর্ব ভারতের উন্নয়নেও বড় প্রভাব পড়বে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

গিরিশপার্কে রণক্ষেত্র! ইটের আঘাত মন্ত্রীর পেটে, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

কলকাতার গিরিশপার্ক এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছিল। সেই ইটের আঘাত তাঁর পেটে লেগেছে বলে তিনি জানান। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সেই আঘাতের দাগও দেখান। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে এবং তারাই এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।শনিবার দুপুরে ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা রয়েছে। সেই সভায় যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎ গিরিশপার্ক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনের এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের কর্মী সমর্থকেরা বাসে করে ব্রিগেডে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাসে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ সহ একাধিক কর্মী আহত হন। আহত হন বৌবাজার থানার ওসিও।অন্যদিকে মন্ত্রী শশী পাঁজার দাবি, বিজেপি কর্মীরাই প্রথম হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপর আক্রমণ করা হয় এবং মারধর করা হয়। মন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিজেপি আশ্রিত বহিরাগত দুষ্কৃতীরা বাসভর্তি ইট, বোতল এবং বিস্ফোরক নিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর কথায়, তারাই তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে।শশী পাঁজা বলেন, তাঁর বাড়ি রাস্তার ধারে হওয়ায় দুষ্কৃতীরা সরাসরি সেখানে আক্রমণ চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইট, বোতল ও লাঠি নিয়ে তৃণমূল সমর্থকদের উপর হামলা করা হয় এবং তাকেও আঘাত করা হয়। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় তাঁর দলের একাধিক কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ও নার্সিংহোমে ভর্তি করতে হয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুষ্কৃতীরা পুলিশের উপরও হামলা চালায় এবং মহিলা পুলিশকর্মী ও এলাকার কাউন্সিলরের উপরও আক্রমণ করা হয়। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাংলার বাসিন্দা নয়, বাইরে থেকে আনা হয়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপির বয়কট সংক্রান্ত একটি ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। তাঁর কথায়, সেই সময় পুরো এলাকা যেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, একটি বড় ইট তাঁর পেটে লাগে এবং তখন তাঁকে দ্রুত ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মার্চ ১৪, ২০২৬
রাজ্য

ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বিজেপি সমর্থকদের বাসে হামলা! ভোরে বেলদায় ভাঙচুর, উত্তেজনা চরমে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সভার আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় বিজেপি সমর্থকদের একটি বাসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দুষ্কৃতীরা বাসটি ঘিরে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে বেলদা থানার পাতলি এলাকায়।জানা গিয়েছে, শনিবার ভোর প্রায় পাঁচটা ত্রিশ মিনিট নাগাদ বাসটি আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী বাসটি থামিয়ে চালকের কাছে জানতে চায় বাসটি কোথায় যাচ্ছে। চালক জানান, তাঁরা ব্রিগেডে হওয়া সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন।অভিযোগ, এই কথা শুনেই কয়েকটি মোটরবাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা বাসটিকে ঘিরে ধরে। এরপর লাঠি নিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে বাসের কাচ ভেঙে ফেলা হয়। সেই সময় বাসের চালক এবং খালাসিও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর চালিয়ে দুষ্কৃতীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।কিছু সময় বাসটি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকার পর পরে সেটিকে ঘুরিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ব্রিগেডের সভায় সমর্থকদের যাওয়া আটকাতেই শাসকদল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে।অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। নারায়ণগড় ব্লকের তৃণমূল সভাপতি জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ তদন্ত করলেই সত্য সামনে আসবে। তাঁর দাবি, বিজেপি নিজেরাই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছে।তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বেলদা থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানা গিয়েছে।এদিকে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় জনসভা হওয়ার কথা। সেই সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্রিগেডের মঞ্চ সাজানো হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। এই বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে রেসকোর্সের হেলিপ্যাডে নামবেন। তারপর সেখান থেকে ব্রিগেড ময়দানে যাবেন।দুপুরের দিকে ব্রিগেডে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। মঞ্চে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের চা বাগান থেকে বাঁকুড়ার টেরাকোটা শিল্পের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে মঞ্চ।

মার্চ ১৪, ২০২৬
দেশ

যুদ্ধের মাঝেও ভারতের পাশে ইরান! হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার যাওয়ার অনুমতি

ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। ইতিমধ্যেই গ্যাসের দাম বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তেলের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় তেলের জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য স্বস্তির খবর এল ইরানের দিক থেকে। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দুটি পেট্রোলিয়াম পণ্যবাহী ট্যাংকারকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গত প্রায় পনেরো দিন ধরে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই অবস্থায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আগেই আশার কথা শোনান। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, খুব শিগগিরই ইতিবাচক খবর আসতে পারে। তাঁর কথার কিছু সময় পরেই দুটি পেট্রোলিয়াম পণ্যবাহী ট্যাংকারকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে যেতে পারবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, অবশ্যই পারবে। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তার প্রমাণ মিলবে।রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি জানান, অনেক কঠিন সময়ে ভারত ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত নানা ক্ষেত্রে ইরানকে সাহায্য করেছে বলে তিনি স্মরণ করেন। সেই সম্পর্কের গুরুত্ব থেকেই ভারতের পণ্যবাহী ট্যাংকারকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ব্রিগেডে মোদীর সভা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা! তিন হাজার রক্ষী, আকাশে উড়বে না কিছুই

বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে জাতীয় সড়ক উদ্বোধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এই সভাকে ঘিরে বিজেপি শিবিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ উড়ান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আকাশে কোনও ড্রোন উড়তে দেওয়া হবে না। তবে আশপাশের বহুতল ভবন থেকে দূরবীন নিয়ে নজরদারি চালাবে পুলিশ।সভাস্থলে প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হচ্ছে। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন উপকূল নিরাপত্তা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার আধিকারিক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রিগেড ময়দানে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বিজেপির একাধিক নেতা।শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেড এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। গোটা এলাকাকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন উপ পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা।চার থেকে পাঁচটি সেক্টর মিলিয়ে একজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনাররাও দায়িত্ব পালন করবেন।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে যে মিছিল ব্রিগেডের দিকে আসবে, সেই সব রাস্তায় প্রায় পঞ্চাশটি পিকেট বসানো হয়েছে।শিয়ালদহ, হাওড়া, শ্যামবাজার এবং দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল ব্রিগেডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই সব রাস্তায় বসানো হয়েছে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা। ব্রিগেডের মঞ্চ এবং আশপাশের এলাকাতেও ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালাবে পুলিশ।উড়ান নিষিদ্ধ এলাকা হওয়ায় আকাশে কোনও ড্রোন ব্যবহার করা হবে না। তবে আশপাশের বহুতল ভবন থেকে দূরবীন নিয়ে পুলিশ নজরদারি চালাবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
রাজ্য

‘১৪ মার্চ ভুলিনি’—নন্দীগ্রামে শহিদ বেদিতে শুভেন্দু, একই দিনে শ্রদ্ধা মমতারও

ভোটের আবহে আবারও আলোচনায় উঠে এল নন্দীগ্রাম। দুই হাজার সাত সালের চৌদ্দ মার্চের ঘটনাকে স্মরণ করে শনিবার নন্দীগ্রামে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে একই দিনে নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে শহিদদের স্মরণ করে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।শনিবার সকালেই নন্দীগ্রামের মালোপাড়ায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা এবং বিজেপির একাধিক পদাধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দুই হাজার সাত সালের চৌদ্দ মার্চের সেই দিনটি ভোলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, জমি ও বাড়ি রক্ষার জন্য নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের যে লড়াই ছিল, সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতি আজও মানুষের মনে রয়েছে।অন্যদিকে নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই সহ সমস্ত শহিদদের প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাচ্ছেন।প্রতি নির্বাচনের আগেই নন্দীগ্রামের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন নির্বাচনের আগে আবারও নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে।সূত্রের খবর, পরে অধিকারী পাড়ার শহিদ বেদিতেও শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার কথা রয়েছে শাসকদলের নেতাদের। সেখানে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী এবং ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে যুক্ত নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীরা প্রথমে অধিকারী পাড়ায় কর্মসূচি পালন করছেন। তারপর সোনাচূড়া শহিদ মিনারে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে তাঁদের।অন্যদিকে বেলা এগারোটার দিকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকেও আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ভাঙাবেড়া এলাকায় শহিদদের স্মরণ করা হবে। এরপর অধিকারী পাড়া এবং মালোপাড়ায় কর্মসূচি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ব্রিগেড মঞ্চে বড় চমক? বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন পরিচিত চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ভোটের মুখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, পরিচিত চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার মঞ্চেই তিনি পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা হয়নি। নিজেও এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ওই চিকিৎসক।জানা গিয়েছে, ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ডাক পেয়েছেন নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং সভায় যাবেন বলেই ভাবছেন। তবে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, সেই বিষয়ে সরাসরি উত্তর দিতে চাননি তিনি।এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক বলেন, তিনি সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনও সভায় আমন্ত্রিত হয়ে যাওয়া মানেই যে সেই দলে যোগ দেওয়া, এমনটা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। আর জি কর হাসপাতালের এক তরুণী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।সেই সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের একাধিক মিছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল। রাতভর আন্দোলন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।শুধু তাই নয়, সেই সময় তিনি আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন।তবে পরে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।এরপর চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিনিধি কি না, তা তারা জানে না। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারেন, কিন্তু চিকিৎসকদের সম্মিলিত আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলার অধিকার তাঁকে কেউ দেয়নি বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।পরে আবার আন্দোলনের কিছু মুখের বিরুদ্ধে সমালোচনাও করতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।এখন সেই নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা করতে পারে বিজেপি।সেই কারণে প্রশ্ন উঠছে, নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় কি ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই রয়েছে।

মার্চ ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal